• House # 22/b(GF), Road # 13, Bloch-Kha, Pisciculture Housing Society, Adabor, Dhaka-1207
  • +88-02-8113059
  • gbss1988@gmail.com
  • Go to Home
  • +88-02-8113059
  • gbss1988@gmail.com

Latest Blog

প্রতিবন্ধী হাফিজুরের জয় হোক ?

পায়ে শক্তি নেই, হাঁটতে পারে না। হাতে শক্তি নেই, কোনো কিছু ধরতে পারে না। কিন্তু লেখার প্রতি তার যে অদ্যম আগ্রহ! মুখে তুলে নিল পেন্সিল। লিখতে শুরু করল স্েলটে। একপর্যায়ে পেন্সিলের জায়গা নিল কলম। স্েলটের স্থলে খাতা। এভাবেই প্রথম শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণীতে ওঠে শারীরিক প্রতিবন্ধী হাফিজুর রহমান। কৃতিত্বের সঙ্গে নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এবার সে এসএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ (রোল-৫৩৭৭৬১) থেকে অংশ নিচ্ছে। বগুড়ার ধুনট উপজেলার এনইউ পাইলট উচ্চবিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া হাফিজুর শিক্ষার আলো দিয়ে পঙ্গুত্বকে জয় করতে চায়। তাই তার এই সংগ্রামী যাত্রা। গতকাল রোববার ধুনট পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের একটি ঘরের বারান্দায় মাদুরে বসে মুখে ধরা কলম দিয়ে পরীক্ষার খাতায় লিখছে হাফিজুর। ধুনট উপজেলার বেলকুচী গ্রামের দিনমজুর মফিজ উদ্দিনের ছেলে হাফিজুর। তার জন্ন ১৯৯৩ সালের ১৫ জানুয়ারি। জন্নগতভাবে প্রতিবন্ধী হাফিজুর। মা-বাবা, আর চার ভাইয়ের অভাবের সংসার। বাবার পাশাপাশি তিন ভাইয়ের উপার্জনে চলে তাদের সংসার।

হাফিজুর জানায়, গ্রামের ছেলেমেয়েদের সহযোগিতায় প্রথমে সে বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ব্র্যাকের স্কুলে লেখাপড়া শুরু করে। সেখান থেকে পঞ্চম শ্রেণী পাস করে ধুনট এনইউ উচ্চবিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হয়। বাড়ি থেকে তার স্কুলের দুরত্ব প্রায় চার কিলোমিটার। দীর্ঘ পথ তাকে রিকশাভ্যানে যাতায়াত করতে হতো। অর্থাভাবে প্রায়ই স্কুলে যেতে পারেনি। নিয়মিত ক্লাস করতে না পারলেও পাড়ার সহপাঠীদের কাছ থেকে সহযোগিতা নিয়ে সে সাময়িক ও বার্ষিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করত। পরীক্ষাকেন্দ্রে আসতেও তাকে ব্যবহার করতে হয় রিকশাভ্যান।

প্রতিবন্ধী

Slide background
Slide background

বেশীর ভাগ প্রতিবন্ধতার কারণ আমাদের জানা নেই ৷সারা পৃথিবীতে ৬০ কোটি প্রতিবন্ধী মানুষ রয়েছে।বাংলাদেশের জনসংখ্যার ১০ শতাংশই প্রতিবন্ধী।জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ এক প্রতিবেদনে বলেছে, প্রতিবন্ধী শিশুদের 'প্রতিবন্ধী' হিসেবে না দেখে শিশু হিসেবে দেখতে হবে। তাহলেই তারা সমাজে নানাভাবে অবদান রাখতে পারবে। বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ হলেও এসব শিশুর অভিভাকরা বলছেন শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন মৌলিক ক্ষেত্রে এখনো তারা ব্যাপক হারে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। সত্তরের দশকে বিশ্বে প্রতিবন্ধীদের সংখ্যা ছিল মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশ। প্রতিবছর ৩ ডিসেম্বরকে বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস হিসেবে পালন করা হয়। ১৯৯২ সাল থেকে এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে। শারীরিকভাবে অসম্পূর্ন মানুষদের প্রতি সহমর্মিতা ও সযোগীতা প্রদর্শন ও তাদের কর্মকন্ডের প্রতি সম্মান জানানোর উদ্দেশ্যেই এই দিবসটির সূচনা।প্রতিবন্ধিতা সৃষ্টিকর্তার অভিশাপ নয়। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআন শরিফে ইরশাদ করেছেন- আমি মানুষকে সুন্দরতম আকৃতিতে সৃষ্টি করেছি। পবিত্র হাদিস শরিফে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন- ধর্ম ভিরু নাক কাটা গোলাম দেশের আমীর বা বাদশাহ হলে তাকে মান্য করতে বলা হয়েছে। এখান থেকে স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, সৃষ্টিকর্তার কাছে অপ্রতিবন্ধী ও প্রতিবন্ধী উভয় সমান। একই দৃষ্টিতে তাদের দেখে থাকেন। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) যুদ্ধে আহত হয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধিতার শিকার হযরত সাদ বিন মাআযকে (রা.) গোত্রের নেতা বানিয়েছিলেন। মৃদু বাক প্রতিবন্ধী সাহাবি হযরত বেলালকে (রা.) ইসলামের প্রথম মুয়াজ্জিন বানিয়েছিলেন। এ ধরনের বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে ইসলামসহ অন্য ধর্মে।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আইন ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

কবি মানুষ জাতের বর্ণনা দিয়ে বলেছেন , ‘নানান বরন গাভীরে ভাই একই রঙের দুধ জগৎ জুড়িয়া দেখলাম একই মায়ের পুত’ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সনদ একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তি বা সনদ। মানবাধিকার হলো মানব পরিবারে জন্ম নেয়া সকল মানুষের অধিকার , এই অধিকার সকল মানুষের জন্য সমান। ২০০৬ সালে ১৩ ডিসেম্বর বিশ্বব্যাপি মানবাধিকারের ৮ম সনদ হিসেবে সাধারণ পরিষদের ৬১ তম অধিবেশনে সর্বসম্মতভাবে জাতিসংঘ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবর্গের অধিকার সনদ পড়হাবহঃরড়হ ড়ভ ঃযব ৎরমযঃং ড়ভ ঢ়বৎংড়হং রিঃয ফরংধনরষরঃু(ঈজচউ) অনুমোদন করে । ৩ মে ২০০৮ তারিখে সনদটি বিশ্বব্যাপি একটি আন্তর্জাতিক আইনে বলবৎ হয়। বাংলাদেশ জাতিসংঘের ৮ম সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে সনদ এবং ১৬ তম সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে এর ঐচ্ছিক বিধান সাক্ষর ও অনুসমর্থন করে। অনুসমর্থনকারী রাষ্ট্র হিসেবে এখন এই সনদ পরিপূর্ণভাবে পালন করা আমাদের রাষ্ট্রিয় দায়িত্ব।এই দায়িত্বের অংশ হিসেবে সরকারিভাবে প্রয়োজন হলো দেশের বিরাজমান সকল আইন ও নীতিমালাকে এই সনদের আলোকে ঢেলে সাজানো। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবর্গের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য দেশের নির্দিষ্ট কোন আইনের বাস্তবায়ন নেই। তৃতীয় বিশ্বের অন্যতম দেশ হওয়ার কারণে নতুন ধাঁচের একটি পূর্ণাঙ্গ মানবাধিকার ভিত্তিক আইনের প্রয়োজন পরে পুরনো দয়া দাক্ষিন্য ভিত্তিক ‘প্রতিবন্ধী কল্যাণ আইন’-২০০১ এর পরিবর্তে। এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সনদের অনেক ঘোষণা , কর্মসূচি , আর বিধি তৈরি হয়েছে। অনক দেশে বলেছে যে তার এই সকল ঘোষনা বিধি বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু সে সবের কোন নজরদারি , জবাবদিহিতা ও আইনের বাধ্যবাধকতা না থাকায় এই সনদের কেউই কোন তোয়াক্কা এমনকি শ্রদ্ধা পর্যন্ত করেনি। আলাদাভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য জাতিসংঘের বিধি (স্ট্যান্ডার্ড রুলস) হয়েছে। কোন দেশই সেটা খুব একটা মানেনি। জাতিসংঘের উদ্যেগে শিশু অধিকার সনদ হয়েছে যা থেকে শিশু প্রতিবন্ধীরা কোন উপকার পায়নি।